Union Council Election

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা নিয়ে জানবো। একটি ইউনিয়নে বসবাসকারী প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারগণ প্রতি ৫ বছর পর তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনীত করে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচন করেন।

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ভােটারগণ একটি অবাধ, সর্বজনীন ও গােপন ভােটদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একজন চেয়ারম্যান, প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের জন্য একজন সংরক্ষিত আসনের সদস্য এবং প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য একজন সাধারণ আসনের সদস্য নির্বাচিত করবেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ ধারা ২০ অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৩১ নং আইন) এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ)
নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এ নির্বাচনের মূল আইনি ভিত্তি।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এবং নির্বাচন কমিশন হতে জারীকৃত পরিপত্রসমূহ আইনি কাঠামাের একটি অংশ।

ইউনিয়ন পরিষদ গঠন

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর [ধারা ১০]: নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ সমন্বয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হবে, যথাঃ

(ক) চেয়ারম্যান ১ (এক) জন;

(খ) সংরক্ষিত আসনের সদস্য ৩ (তিন) জন; এবং

(গ) সাধারণ আসনের সদস্য ৯ (নয়) জন;

চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও সাধারণ আসনের সদস্যগণ আইন ও বিধি অনুসারে প্রত্যক্ষ ভােটে নির্বাচিত হবেন।

ভােটার হওয়ার যােগ্যতা

বাংলাদেশের যে কোনাে নাগরিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে, যােগ্যতা অর্জনের তারিখে ভােটার হওয়ার যােগ্য হবেন যদি তিনি-

১. আঠার বা তদূর্ধ বছর বয়স্ক হন;

২. কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘােষিত না হন;

৩. সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন কোন ভােটার এলাকার অধিবাসী বা অধিবাসী বলিয়া গণ্য হন;

৪. Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 (P.O No 8 of 1972) এর অধীন কোন অপরাধে দন্ডিত
হয়ে থাকেন; এবং

৫. International Crimes (Tribunals) Act, 1973 Act No. XIX of 1973) এর অধীন কোন অপরাধে দন্ডিত না হয়ে থাকেন।

কারা ভােট দিতে পারবেন

সংশ্লিষ্ট ভােটকেন্দ্রের আওতাধীন ভােটার এলাকার ভােটার তালিকায় যাদের নাম থাকবে।

ছবিসহ ভােটার তালিকা

ছবিসহ ভােটার তালিকার তথ্যের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যের অনেকাংশে মিল থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে ভােটার তালিকায় ভােটারের অবস্থান চিহ্নিত করা যাবে না। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভােটারের এনআইডি (NID) নম্বর ও ভােটার তালিকায় ভােটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর এক নয়।

ভােটার তালিকায় নাম খুঁজে বের করার জন্য ভােটার এলাকার নামসহ ৪ অংকের ক্রমিক নম্বর সকলের অবগত থাকা প্রয়ােজন।

নিম্নে ভােটার তালিকা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়া হলাে:

ক) ভােটার তালিকায় কভার পৃষ্ঠা এবং প্রথম পৃষ্ঠা ও অন্যান্য পৃষ্ঠার শীর্ষভাগে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন/ পৌরসভা/সিটি
কর্পোরেশন/ক্যান্টনমেন্ট বোের্ড, ওয়ার্ড নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্যের সাথে ভােটার এলাকার নাম ও কোড নম্বর থাকে;

খ) ভােটার এলাকা বলতে গ্রাম/মহল্লা/রাস্তা বা এর অংশবিশেষ হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ভােটার এলাকার নামের সাথে সেগুলাের হুবহু মিল নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে অনেক ভােটার এলাকার নাম সংশ্লিষ্ট মহল্লা বা রাস্তার নামের সাথে মিল নেই;

গ) ছবিসহ ভােটার তালিকায় ভােটারের নামের বিপরীতে ৪ অঙ্ক বিশিষ্ট ক্রমিক নম্বর রয়েছে। ভােটারের ক্রমিক নম্বর জানা থাকলে ভােটার তালিকায় তার অবস্থান সহজেই জানা যাবে;

ঘ) ভােটার তালিকায় ভােটারের একটি ১২ অঙ্কের ভােটার নম্বর রয়েছে।

ভােটার তালিকা ও ভােটাধিকার

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৯ এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৪ এবং ৩৩ এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ভােটার তালিকা প্রস্তুত ও ভােটাধিকার প্রয়ােগের বিধান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ভােটার এলাকাসমূহের ভােটার তালিকা প্রণয়ন করিবেন। কোন ব্যক্তির নাম উক্ত ভােটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও সাধারণ আসনের সদস্য এর ০৩ (তিন)টি পদে ভােট দিতে পারবেন।

প্রতিটি ভােটার এলাকার ভােটার তালিকা মহিলা ও পুরুষ- এ দুই অংশে বিভক্ত আছে। ভোটারের নাম যে ভােটকেন্দ্রের ভােটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে, তিনি সেই ভােটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট ভােটকক্ষে ভােট প্রদান করতে পারবেন।

ভােটার তালিকা ও ভােটাধিকার

ছবিসহ ভােটার তালিকার ব্যবহার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে প্রণীত ছবিসহ ভােটার তালিকা ব্যবহার করতে হবে। ভােটকেন্দ্রে ভােটগ্রহণ কর্মকর্তাগণ ছবিসহ ভােটার তালিকা ব্যবহার করবেন।

প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা পােলিং এজেন্ট বা ভােটাররা কোন অবস্থাতেই ছবিসহ ভােটার তালিকা ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে শুধুমাত্র নির্বাচনি কাজে ছবি ছাড়া ভােটার তালিকা ব্যবহার করতে পারবেন।

ভােটার তালিকা ও ভােটাধিকার

ভােটার স্লিপ ও এর ব্যবহার

কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ভােটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা ভােটগ্রহণের দিন ভােটকেন্দ্রে। প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার বাহিরে ভােটার স্লিপ প্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে,

১. কোন ভােটকেন্দ্রের ১৮০ (একশত আশি) মিটারের মধ্যে ভােটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন না। 

২. ভােটার স্লিপ ১২ (বার) সেন্টিমিটার x ৮ (আট) সেন্টিমিটারের অধিক আয়তনের হতে পারবে না এবং উহাতে প্রার্থীর নাম ও ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করতে পারবেন না, তবে ভােটারের নাম, ভােটার নম্বর ও ভােটকেন্দ্রের নাম ইত্যাদি উল্লেখ করতে পারবেন এবং 

৩. মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখবিহীন কোন ভােটার স্লিপ মুদ্রণ করতে পারবেন না।

ভােটকেন্দ্রের জন্য ছবিসহ ভােটার তালিকা সরবরাহ ও গ্রহণ

ভােটকেন্দ্রের ভােটগ্রহণের জন্য প্রয়ােজনীয় সংখ্যক ছবিসহ ভােটার তালিকা রিটার্নিং অফিসার যথাসময়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে সরবরাহ করবেন। প্রিজাইডিং অফিসার ছবিসহ ভােটার তালিকা বুঝে নেয়ার সময় নিম্নোক্ত যে সকল বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখবেন –

• প্রাপ্ত ছবিসহ ভােটার তালিকার প্রতিটি অংশ ভােটকেন্দ্রের বিপরীতে বর্ণিত ভােটার এলাকার ও ভােটার সংখ্যার সাথে একাধিকবার পরীক্ষা করবেন এবং সঠিক আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন;

• ভােটকেন্দ্রের আওতাধীন ভােটার এলাকার সমসংখ্যক পুরুষ ও মহিলা অংশের ভােটার তালিকা সঠিকভাবে বুঝে নিবেন।

ভোট গ্রহণের সময়

নির্বাচনের দিন সকাল ৮:০০ টায় ভােটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে এবং বিকাল ৪:০০ টায় ভােটগ্রহণ শেষ হবে। তবে বিকেল ৪:০০ টার মধ্যে যে সকল ভােটার ভােটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে থাকবেন তারা ভােট দিতে পারবেন।

ভােটগ্রহণ শুরুর পূর্বে প্রয়ােজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সকল ভােটগ্রহণ কর্মকর্তাকে সকাল ৬:০০ টার মধ্যে প্রস্তুত হতে হবে।

আপনি আরও পছন্দ করতে পারেন:

শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসায়, চাকরি সংক্রান্ত যেকোন তথ্য সবার আগে পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক ও ফলো করে রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য

Back to top button