Union Council Election

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের অনুসরণীয় আচরণ

ভােট গ্রহণ কাজের জন্য নিয়ােজিত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পােলিং অফিসার অর্থাৎ সকল ভােট গ্রহণ কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত নির্বাচনি কর্মকর্তাগণ নিম্নে প্রদত্ত নীতিমালা মেনে চলবেন এবং সাধারণ প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার সাথে এগুলাে প্রয়ােগ করবেন। আজ আপনাদের জন্য নির্বাচনি কর্মকর্তাদের অনুসরণীয় আচরণ আলোচনা করবো।

নির্বাচনি কর্মকর্তাবৃন্দ-

১. নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ কর্তৃক জারীকৃত সংশ্লিষ্ট সকল নীতিমালা, নির্দেশনা ও নির্বাচনি আইনকানুন ও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রচলিত আইনসমূহ মেনে চলবেন এবং পক্ষপাতিত্বহীন, দল-নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সেগুলাে প্রয়ােগ করবেন;

২. ভােটার, প্রার্থী, পােলিং এজেন্ট, নির্বাচনি এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আচরণ প্রদর্শন করবেন;

৩. কোনাে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন বা সমর্থনের ঈঙ্গিত প্রকাশ করবেন না;

৪. তাঁদের দায়িত্ব পালন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনে যতটুকু এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে সে অনুযায়ী ভােটার, প্রার্থী, পােলিং এজেন্ট, নির্বাচনি এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে সহযােগিতা করবেন;

৫. ব্যক্তিগত লাভের জন্য নিজেদের পদ সংশ্লিষ্ট অর্পিত ক্ষমতা প্রয়ােগ করবেন না বা প্রয়ােগের চেষ্টা করবেন না এবং কারাে নিকট হতে কোনাে প্রকার উপহার, অর্থ, বা অন্য কোনাে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করবেন না;

৬. ব্যালট ও সরকারি (অফিসিয়াল) সিলের গােপনীয়তা বজায় রাখবেন;

৭. ব্যক্তিগত বা অন্য কোনাে প্রকার গােপন তথ্যের গােপনীয়তা প্রকাশ করবেন না;

৮. ধর্ম, জাতি, বর্ণ, ও নারী- পুরুষ এবং বয়স বিবেচনায় রেখে সামাজিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত মর্যাদা নির্বিশেষে সকল ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করবেন;

৯. দায়িত্ব পালন শুরুর পূর্বে সকল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত সকল পদ্ধতির সাথে নিজেদেরকে পরিচিত করে তুলবেন।

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের পেশাগত নীতি

সার্বিক নির্বাচন কার্যক্রম সফল ও সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ নির্বাচনি কর্মকর্তাদের অনুসরণীয় আচরণ হিসেবে কিছু পেশাগত নীতি পালন করতে হবে। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের পেশাগত নীতিগুলো নিচে আলোচিত হলো-

সততাঃ

১. প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী সকল নির্বাচনি আইন ও কার্যপ্রণালি অনুসরণ করবেন;

২. নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনাে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনাে ব্যক্তি কর্তৃক আর্থিক বা অন্য কোনাে প্রকার সুযােগ সুবিধা গ্রহণ করবেন না;

৩. ভােট প্রদানের যােগ্য নন বা ভােটার তালিকাতে নাম নেই এমন কোনাে ব্যক্তিকে ভােট প্রদানে অনুমতি প্রদান করবেন না;

৪. সংশ্লিষ্ট ভােটকেন্দ্রের ভােটারকে কোন অবস্থাতেই ভােট প্রদানে বাধাদান করবেন না;

নিরপেক্ষতাঃ

  • নির্বাচনি দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনাে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করবেন না;
  • দায়িত্ব পালনে যেন কোনাে রাজনৈতিক মতামতের প্রভাব না পড়ে;
  • কোনাে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কিত পােশাক বা চিহ্ন ধারণ করবেন না;

স্বচ্ছতাঃ

পােলিং এজেন্ট, নির্বাচনি এজেন্ট, প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকদেরকে যেন আইন ও বিধি অনুযায়ী ভােটগ্রহণ কার্যাবলী পর্যবেক্ষণের অনুমতি প্রদান করা হয় তা নিশ্চিত করবেন।

ন্যায়নিষ্ঠ আচরণঃ

ধর্ম, জাতি, বর্ণ, ও নারী-পুরুষ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভােটার, পােলিং এজেন্ট, নির্বাচনি এজেন্ট, প্রার্থী ও পর্যবেক্ষক সকলের সাথে ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করবেন।

ভােটের গােপনীয়তাঃ

১. প্রত্যেক ভােটারের ভােট প্রদানের গােপনীয়তা যেন বজায় থাকে তা নিশ্চিত করবেন;

২. গােপন কক্ষ বা ভােটদান কক্ষ (মার্কিং প্লেস) যেন এমন একটি স্থানে থাকে যেখানে কেউ (ভােটগ্রহণ কর্মকর্তা/পােলিং এজেন্ট/গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক) ভােটারের ব্যালট পেপার চিহ্নিতকরণ দেখতে না পারে তা নিশ্চিত করবেন।

সকল ভােটগ্রহণ কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ নিয়ােগপত্রের সাথে সংযুক্ত প্রাপ্তি স্বীকার (যাতে তারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন মর্মে ঘােষণা সম্বলিত একটি অংগীকারনামা রয়েছে) স্বাক্ষর করবেন। নিয়ােগপত্রে স্বাক্ষরের পর প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি রিটার্নিং অফিসারের নিকট ফেরত পাঠাতে হবে।

(এই অংশটুকু রিটার্নিং অফিসারকে স্বাক্ষরপূর্বক ফেরত দিতে হবে)

ভােটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অংগীকারনামা

ভােটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়ােগপ্রাপ্ত হয়ে আমি —————- (নাম), ———————- (পদবী) অঙ্গীকার করছি যে, আমি আমার উপর | অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সর্বপ্রকার দলীয়/গােষ্ঠীয়/ধর্মীয় প্রভাব হতে মুক্ত থেকে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে পালন করব। আমি অবগত আছি যে, দায়িত্ব সম্পাদনে কোন ব্যত্যয়ের জন্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৩ নং আইন) এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দায়ী থাকব।

তারিখঃ

প্রিজাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার/পােলিং অফিসার

আপনি আরও পছন্দ করতে পারেন:

শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসায়, চাকরি সংক্রান্ত যেকোন তথ্য সবার আগে পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক ও ফলো করে রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য

Back to top button